ব্রেইনরট কুইজ কী আর কাদের জন্য?
ব্রেইনরট শব্দটা এসেছে সেই অনুভূতি থেকে যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা শর্ট ভিডিও দেখে মনে হয় মাথার ভেতরটা জেলি হয়ে গেছে। এই কুইজ সেই অবস্থাটাকে মজা করে মাপে: তুমি মিম চেনো কিন্তু বাইরেও যাও, নাকি তোমার পুরো ভাষাটাই ইন্টারনেট থেকে ধার করা।
যারা টিকটক, রিলস আর ইউটিউব শর্টসে দিন কাটায় তারা তো খেলবেই, তবে যারা নিজেদের 'এসবের বাইরে' ভাবে তাদের জন্যও মজা আছে, কারণ কয়েকটা প্রশ্ন তাদেরও ধরে ফেলে।

ব্রেইনরট স্কোর কীভাবে বের হয়?
প্রতিটা প্রশ্নের চারটা উত্তরে ০ থেকে ৩ পয়েন্ট আছে। 'এর মানে কী কোনো ধারণাই নেই' ধরনের উত্তরে শূন্য, আর 'পুরো সাউন্ডসহ উল্টো বলে দিই' ধরনের উত্তরে তিন। দশটা প্রশ্ন শেষে পয়েন্ট যোগ হয়: ৯ পর্যন্ত ঘাস-ছোঁয়া চ্যাম্পিয়ন, ১৯ পর্যন্ত সারাক্ষণ অনলাইন, তার ওপরে পুরোপুরি ব্রেইনরট।
সৎ উত্তর দিলে রেজাল্ট মজার হয়। স্ক্রিন টাইম কমিয়ে বললে কুইজ ধরবে না, কিন্তু তোমার বন্ধুরা ঠিকই ধরবে।
কুইজে কী ধরনের প্রশ্ন থাকে?
প্রশ্নগুলো তোমার ফোনের অভ্যাস আর ইন্টারনেটের ভাষা দুটোই ছুঁয়ে যায়। কয়েকটা যেমন:
- গতকাল তোমার স্ক্রিন টাইম কত ছিল: দুই ঘণ্টার কম, নাকি 'প্লিজ জিজ্ঞেস কোরো না'?
- বাস্তব জীবনে, যেমন চায়ের দোকানে বা ক্লাসে, তুমি কি মিমের ভাষায় কথা বলো?
- তোমার গ্যালারি বেশিরভাগ ভরা কিসে: পরিবারের ছবি, নাকি হাজারটা স্ক্রিনশট আর মিম?
- ঘুমানোর আগে শেষ কাজটা কী: বই, নাকি 'শুধু পাঁচ মিনিট' রিলস?
- নতুন ট্রেন্ড তুমি কখন জানো: পাড়ার সবার আগে, নাকি যখন মা-ও সেটা শেয়ার করে?
এখানে সবাই ব্রেইনরট কুইজ নিয়ে এত মজা পাচ্ছে কেন?
বাংলাদেশে ফেসবুক আর টিকটক শুধু অ্যাপ না, রীতিমতো বসার ঘর। কোচিং থেকে ফেরার বাসে, হলের ডাইনিংয়ে, এমনকি ইফতারের টেবিলেও কারো না কারো হাতে রিল চলছে। তাই 'তোর ব্রেইনরট কত' প্রশ্নটা এখানে প্রায় 'তোর রেজাল্ট কত'-র মতোই স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
কুইজটা বেশিরভাগ সময় গ্রুপ চ্যালেঞ্জ হিসেবে খেলা হয়: একজন রেজাল্ট পোস্ট করে, বাকিরা ছোট ভাইবোন বা কাজিনকে ট্যাগ করে, আর যে পুরোপুরি ব্রেইনরট পায় সে পরের এক সপ্তাহ সেই খোঁচা শোনে। কেউ কেউ ছোট ভাইকে দিয়ে খেলিয়ে স্ক্রিন টাইম নিয়ে কথা তোলার অজুহাতও বানায়।
ব্রেইনরট কুইজ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
ব্রেইনরট মানে আসলে কী?
ইন্টারনেটের ভাষায় ব্রেইনরট মানে এত বেশি শর্ট ভিডিও আর মিম গেলা যে মাথা একটু ভোঁতা লাগে আর কথার মধ্যে মিমের শব্দ ঢুকে পড়ে। এটা কোনো রোগ নয়, বরং একটা ঠাট্টা, যদিও স্ক্রিন টাইমের বাস্তব প্রভাব নিয়ে কথাটা শুরু হয়েছিল বেশ সিরিয়াসভাবে।
ব্রেইনরট কুইজে পুরোপুরি ব্রেইনরট পেলে কী করব?
প্রথমে হাসো, তারপর স্ক্রিনশট পোস্ট করো, তারপর আজ রাতে ফোনটা অন্য ঘরে রেখে ঘুমাও। রেজাল্টের লেখাতেই একটা ছোট পরামর্শ থাকে, যেমন উইকেন্ডে একটু বাইরে হেঁটে আসা। এক সপ্তাহ পরে আবার খেললে অনেকেই এক ধাপ নিচে নামে।
স্কিবিডি, রিজ বা ওহাইও না জানলে কি খেলা যাবে?
অবশ্যই। 'জানি না' ধরনের উত্তর প্রতিটা প্রশ্নেই আছে আর সেগুলোতে পয়েন্ট শূন্য, মানে তুমি ঘাস-ছোঁয়া চ্যাম্পিয়নের দিকে এগোবে। অনেকে ঠিক এটা প্রমাণ করতেই খেলে যে তারা এখনো ট্রেন্ডের বাইরে আছে।
কুইজটা কি বাচ্চাদের জন্য ঠিক আছে?
হ্যাঁ। প্রশ্নগুলো স্ক্রিন টাইম, গান, গ্যালারি আর ট্রেন্ড নিয়ে; আপত্তিকর কিছু নেই। অনেক বড় ভাইবোন ছোটদের দিয়ে খেলিয়ে মজা পায়, আর তারপর কার স্কোর বেশি তা নিয়ে ঝগড়া হয়।
রেজাল্ট কি টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া যায়?
যায়। রেজাল্ট পেজে একটা শেয়ার বাটন আছে যা একটা কার্ড বানিয়ে দেয়। সেটা স্টোরিতে দিয়ে বন্ধুদের ট্যাগ করলেই চ্যালেঞ্জ শুরু। উত্তরগুলো কার্ডে থাকে না, শুধু রেজাল্টের নামটা থাকে।
ব্রেইনরট কুইজ আর স্ক্রিন টাইম রিপোর্টের পার্থক্য কী?
ফোনের স্ক্রিন টাইম রিপোর্ট শুধু ঘণ্টা গোনে। এই কুইজ দেখে ইন্টারনেট তোমার মাথায় কতটা ঢুকেছে: তুমি কীভাবে কথা বলো, কী মনে রাখো, কোন গানে কোন ভিডিও মনে পড়ে। দুই ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম নিয়েও কেউ পুরোপুরি ব্রেইনরট হতে পারে।
আমাদের অন্য টেস্টগুলোও দেখো
- রিজ টেস্টফ্লার্টিং, টেক্সটিং আর কনফিডেন্স নিয়ে ১০টি প্রশ্ন। রিজ লোডিং নাকি নীরব রিজ?
- মানসিক বয়স টেস্টঘুমের সময়, স্ন্যাকস আর ফোন কল নিয়ে ১২টি ছোট প্রশ্ন। আসলে তোমার বয়স কত?
- পার্সোনালিটি টেস্টতুমি কীভাবে প্ল্যান করো, সিদ্ধান্ত নাও আর রিল্যাক্স করো, তা নিয়ে ১২টি ছোট প্রশ্ন। জেনে নাও চার টাইপের কোনটি তোমার সাথে মেলে।
- রিঅ্যাকশন টাইম টেস্টস্ক্রিন সবুজ হওয়ার মুহূর্তে ট্যাপ করো। পাঁচ রাউন্ড, মিলিসেকেন্ডে তোমার গড়। বন্ধুদের চেয়ে দ্রুত?